PMAY U 2.0 – গৃহহীন এবং নিজের পাকা বাড়ি বা ফ্ল্যাট নেই, এমন মানুষের জন্য PMAY-U 2.0 বা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা আরবান প্রকল্পে নতুন সুযোগ এসেছে। মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিলেই নিজের নামে ফ্ল্যাট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিজের মাথার ওপর পাকা ছাদ অনেকেরই স্বপ্ন। কিন্তু কম আয়ের শ্রমজীবী পরিবারের পক্ষে সেই স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন। তাঁদের পাশে দাঁড়াতে কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার যৌথভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট যোগ্য চটকল শ্রমিকেরা ৫০ হাজার টাকায় পাকা ফ্ল্যাট পেতে পারেন।
PMAY-U 2.0 : প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা শহর
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা দেশের গৃহহীন ও কম আয়ের পরিবারের জন্য চালু করা একটি সরকারি প্রকল্প। যোগ্য নাগরিকদের নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করাই এর লক্ষ্য। গ্রাম ও শহরের আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য এই প্রকল্পে সরাসরি আর্থিক সহায়তা ও ভর্তুকি দেওয়া হয়। এর ফলে অনেক পরিবার পাকা বাড়ি তৈরির সুযোগ পাচ্ছে।
এক নজরে: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সুবিধা
প্রকল্পের অর্থ উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অথবা অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে দেওয়া হয়। এতে সুবিধাভোগীরা স্বাস্থ্যকর ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাযুক্ত বাড়ি বা ফ্ল্যাট পান। প্রতিটি বাসস্থানে জল, বিদ্যুৎ এবং পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক। সরাসরি অর্থ দেওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা কমে এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। এই সহায়তা অনেক পরিবারের জীবনযাত্রার মানও উন্নত করে।
PMAY-G-এর সুবিধা (PMAY U 2.0 Apply)
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা গ্রামীণ বা PMAY-G মূলত গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য। পশ্চিমবঙ্গে বাংলা আবাস যোজনার আওতায় কাঁচা বা ভাঙাচোরা ঘরে থাকা পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। সমতল এলাকার বাসিন্দারা বাড়ি তৈরির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পান। পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার জন্য সহায়তার পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। পাশাপাশি, ১০০ দিনের কাজের আওতায় অতিরিক্ত মজুরি এবং শৌচাগার নির্মাণের জন্য বাড়তি অর্থের ব্যবস্থাও রয়েছে।
PMAY-U-এর সুবিধা
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা আরবান বা PMAY-U শহরের বস্তিবাসী ও কম আয়ের পরিবারের জন্য সহায়ক। যোগ্য আবেদনকারীরা গৃহঋণের সুদে সরকারি ভর্তুকি পান। শহরের অল্প জমিতে বহুতল আবাসন তৈরি করে ফ্ল্যাট দেওয়া হয়। এতে বস্তি এলাকার উন্নয়ন এবং পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়। শহরের দরিদ্র পরিবারও স্থায়ীভাবে পরিকল্পিত আবাসন এলাকায় থাকার সুযোগ পায়।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনায় এবার সবাই টাকা পাবেন? স্বামী সরকারি চাকরি করলে বা একই বাড়িতে দুই পরিবার থাকলে কি টাকা মিলবে?
মাত্র ৫০ হাজার টাকায় কারা ফ্ল্যাট পাবেন ?
নতুন এই উদ্যোগে চটকল শ্রমিকেরা এককালীন ৫০ হাজার টাকা দিয়ে পাকা ফ্ল্যাট পেতে পারেন। প্রথম ধাপে হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার শ্রমিকদের নিয়ে পাইলট প্রকল্প শুরু হচ্ছে। প্রতিটি ফ্ল্যাট তৈরির আনুমানিক খরচ ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার দেবে ১ লক্ষ ৫০ হাজার, রাজ্য সরকার দেবে ২ লক্ষ ৭৯ হাজার এবং শ্রম দফতর দেবে ৭১ হাজার টাকা। বাকি ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে শ্রমিককে। ফ্ল্যাটগুলি হবে দুই শোবার ঘর, একটি বসার ঘর ও রান্নাঘরসহ।
কীভাবে আবেদন করবেন ?
আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট এলাকার চটকল কর্তৃপক্ষ বা রাজ্য শ্রম দফতরের বিশেষ ক্যাম্প থেকে সংগ্রহ করতে হবে। ফর্ম পূরণ করে পরিচয়পত্র, আয়ের প্রমাণ এবং শ্রমিক পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিতে হবে। এরপর সরকারি আধিকারিকেরা নথি এবং আবেদনকারীর বর্তমান বাসস্থানের অবস্থা যাচাই করবেন। যাচাই শেষে যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করে ফ্ল্যাট বরাদ্দ করা হবে।
আবেদনের শর্ত
আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় ৩ লক্ষ টাকার কম হতে হবে। আবেদনকারী বা পরিবারের অন্য কারও নামে দেশের কোথাও পাকা বাড়ি থাকা চলবে না। গত ২০ বছরে সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আবেদনকারীকে বৈধ চটকল শ্রমিক হতে হবে এবং পুরনো, জরাজীর্ণ শ্রমিক কোয়ার্টারে থাকতে হবে। ফ্ল্যাট বণ্টনে প্রবীণ, প্রতিবন্ধী, রূপান্তরকামী এবং একক নারীরা অগ্রাধিকার পাবেন।
চটকল শ্রমিকদের জন্য এই প্রকল্পে অল্প খরচে নিরাপদ ও আধুনিক ফ্ল্যাট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ঘর পেলে বহু পরিবারকে পুরনো, স্যাঁতসেঁতে বাসস্থান ছেড়ে ভালো পরিবেশে থাকার পথ খুলে যাবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ সহায়তায় শ্রমিক পরিবারের জীবনযাত্রা এবং সামাজিক মর্যাদা উন্নত হতে পারে। কাজ ঠিক সময়ে শেষ হলে এই প্রকল্প রাজ্যের আবাসন উদ্যোগে একটি ভালো উদাহরণ হয়ে উঠবে।